আরডিআইএফের প্রধান নির্বাহী

রুশ গ্যাস বন্ধে ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে ইইউ

রাশিয়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি বন্ধ করায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (আরডিআইএফ) প্রধান নির্বাহী কিরিল দিমিত্রিয়েভ।

রাশিয়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি বন্ধ করায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (আরডিআইএফ) প্রধান নির্বাহী কিরিল দিমিত্রিয়েভ। সম্প্রতি সৌদি আরবের ফিউচার মিনারেলস ফোরামে তিনি বলেন, ‘‌রাশিয়া থেকে গ্যাস নেয়া বন্ধের পর অঞ্চলটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অথচ রাশিয়ার অর্থনীতি স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করছে।’ খবর আরটি ইন্টারন্যাশনাল।

২০২২ সালে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত বাড়ার পর ইইউ রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে শুরু করে। কিছু সদস্য দেশ স্বেচ্ছায় রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি বন্ধ করলেও অস্ট্রিয়া, স্লোভাকিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র ও ইতালি আমদানি অব্যাহত রাখে। তবে ইউক্রেন রাশিয়ার সঙ্গে গ্যাস ট্রানজিট চুক্তি নবায়ন করতে অস্বীকৃতি জানানোয় চলতি মাসের শুরুতে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

ইইউর সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হিসেবে দিমিত্রিয়েভ বলেন, ‘‌রুশ গ্যাসের পরিবর্তে অন্যান্য উৎস থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছে ইইউভুক্ত দেশগুলো। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে।’

ইউরোপে গ্যাস রফতানি বন্ধ হওয়ায় রাশিয়ার অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি বলেও দাবি করেন দিমিত্রিয়েভ। তিনি বলেন, ‘‌রুশ অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। বরং অর্থনৈতিক ধাক্কার মূল ভার ইইউকেই বহন করতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘‌রাশিয়ার অর্থনীতি ভালো অবস্থায় রয়েছে। ২০২৪ সাল শেষে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। বিপরীতে ইউরোপ মাত্র ১ শতাংশ বা তার কম প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। রাশিয়ার অর্থনীতিকে সীমাবদ্ধ করার প্রচেষ্টা বিবেচনা করলে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি মোটেই খারাপ নয়।’

আরডিআইএফ প্রধান জানান, আগামী বছরে রাশিয়ার প্রবৃদ্ধি ২ থেকে ২ দশমিক ৫ শতাংশে ধীর হতে পারে। তবে এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতির ওপর নির্ভর করবে।

আরও